ব্লকচেইন প্রযুক্তি: ভবিষ্যতের নিরাপদ লেনদেন – একটি বিশদ পর্যালোচনা
ভূমিকা
ব্লকচেইন প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ডিজিটাল লেনদেন, ডেটা নিরাপত্তা এবং বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্লকচেইন বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তবে ব্লকচেইন আসলে কী, কিভাবে কাজ করে এবং এর গুরুত্ব কী, এ সম্পর্কে অনেকেই পরিষ্কার নন। এই আর্টিকেলে তা বিস্তারিত জানানো হবে।
ব্লকচেইন কী?
ব্লকচেইন হলো একটি ডিস্ট্রিবিউটেড ডিজিটাল লেজার যা ব্লকের মাধ্যমে ডেটা সংরক্ষণ করে এবং একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে একটি চেইন তৈরি করে। প্রতিটি ব্লকে থাকে পূর্ববর্তী ব্লকের ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ, যার মাধ্যমে এটি নিরাপদ ও পরিবর্তন অযোগ্য হয়।
ব্লকচেইন কিভাবে কাজ করে?
-
প্রতিটি লেনদেন প্রথমে একটি ব্লকে রেকর্ড হয়।
-
ব্লকগুলো সময়ের ক্রমে চেইনে যুক্ত হয়।
-
প্রতিটি ব্লক যাচাই করে নেটওয়ার্কের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা।
-
লেনদেন সম্পন্ন হলে ব্লক চেইনে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়।
ব্লকচেইনের বৈশিষ্ট্য
-
নিরাপত্তা: ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে তথ্য সুরক্ষিত।
-
স্বচ্ছতা: সকল লেনদেন নেটওয়ার্কের সকল ব্যবহারকারীর কাছে উন্মুক্ত।
-
বিনিয়োগ: কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পরিচালিত হয়।
ব্লকচেইনের ব্যবহার
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি: বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ইত্যাদি ডিজিটাল মুদ্রার ভিত্তি।
-
সরকারি নথিপত্র: ভোট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নাগরিক সেবা।
-
সরবরাহ চেইন: পণ্যের উৎপত্তি ও গন্তব্য যাচাই।
-
স্বাস্থ্যসেবা: রোগীর ইতিহাস নিরাপদ রাখা।
-
বিমা ও চুক্তি: স্বয়ংক্রিয় চুক্তি ও দাবি নিষ্পত্তি।
ব্লকচেইনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
সুবিধা:
-
ডেটা নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা।
-
লেনদেনের গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।
-
মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজনীয়তা কমানো।
সীমাবদ্ধতা:
-
উচ্চ বিদ্যুৎ খরচ।
-
আইনগত বাধা ও নিয়মকানুনের অভাব।
-
স্কেলেবিলিটি সমস্যা।
বাংলাদেশে ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে ব্যাংকিং, শিক্ষা, কৃষি, ও স্বাস্থ্য খাতে ব্লকচেইনের ব্যবহার বাড়ছে। সরকারি ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে ব্লকচেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
